ড. সাইফুদ্দিন কিচলু
পাঞ্জাবের বিখ্যাত কংগ্রেস নেতা ড. সাইফুদ্দিন কিচলু ১৮৮৮ সালে অমৃতসর শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার কলেজ জীবন কেটেছিল আগ্রা ও আলীগড়ে। আলীগড় কলেজ থেকে বি. এ. পাশ করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য ইউরোপে যান। ইউরোপে অবস্থানকালে তিনি কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ. ডিগ্রী এবং জার্মানী থেকে পি. এইচ. ডি. ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়া তিনি লণ্ডনে ব্যারিস্টারি পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
১৯১৫ সালে ইউরোপ থেকে স্বদেশে ফিরে আসার পর তিনি অমৃতসর শহরে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন-ব্যবসা শুরু করলেন। এই সময় তিনি শহরের বিভিন্ন সামাজিক ও জনহিতকর কাজে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতেন। এই সমস্ত কাজের মধ্য দিয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তা লাভ করেন, তার ফলে তিনি অমৃতসর মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তার অক্লান্ত কর্মশক্তি শুধু মাত্র সমাজহিতকর কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল না। তারই সাথে সাথে তিনি রাজনৈতিক কার্যকলাপেও অংশগ্রহণ করে চলেছিলেন এবং পরে সেটাই তার প্রধান কর্মক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অতি অল্পদিনের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠলেন। পাঞ্জাব প্রদেশে যাঁরা কংগ্রেসকে সংগঠিত করে তুলেছিলেন তিনি তাঁদের অন্যতম। ১৯১৯ সালে তিনি অমৃতসর শহরে কুখ্যাত ‘রাউলাট এ্যাক্ট’ এর বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি করাচিতে এক মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে দেশীয় সৈন্যদের বিদ্রোহ করার জন্য উস্কানী দিয়েছিলেন। জেল থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি নিখিল ভারত খিলাফত কমিটির সম্পাদকের পদে নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে তিনি ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কিছুকালের জন্য দিল্লী ও পাঞ্জাব প্রদেশের সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছিলেন। ১৯২৯ সালে লাহোরে ভারতীয় কংগ্রেসের ৪৪তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে তিনি অভ্যর্থনা সমিতির চেয়ারম্যানের পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তখনকার দিনে কিচলু বক্তা হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর জ্বালাময়ী বক্তৃতা শ্রোতাদের মনে উন্মাদনার সৃষ্টি করে তুলত। এই কারণে তাঁর সম্পর্কে সরকারি কর্তৃপক্ষের মনে একটা আতঙ্কের ভাব ছিল। সেজন্যই যখন তাঁর রাজনৈতিক জীবন সবেমাত্র শুরু হয়েছে, সেই সময় বাংলার সরকার তার বাংলায় প্রবেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ১৯১৯ সালে তাঁর উপর এই মর্মে এক নির্দেশ জারি হয়েছিল যে, তিনি কোনও জনসভায় বক্তৃতা দিতে পারবেন না। রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য তাঁকে বহুবার জেল খাটতে হয়েছিল। তাঁর জীবনের চৌদ্দটি বছর তিনি জেলখানাতেই কাটিয়েছিলেন।
গান্ধীজী কতৃর্ক অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর দেশবাসীর মন হতাশা ও অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। এই সময় ভারতে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্রে নানারূপ দুুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। জাতীয়তাবাদী নেতাদের মধ্যে এই চিন্তাটা পেয়ে বসে যে, দেশের সত্যিকারের কল্যাণ করতে হলে প্রথমে নিজের সম্প্রদায়ের উন্নতির দিকে দৃষ্টি দেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। এই ধরনের চিন্তার ফলে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য ‘হিন্দু সংগঠন’-এর কার্যে তার সমস্ত শক্তিকে নিয়োজিত করলেন। স্বামী শ্রদ্ধানন্দ রাজনীতির পথ থেকে দূরে সরে এসে শুদ্ধির কাজ নিয়ে মেতে গেলেন। ড. কিচলুর রাজনৈতিক জীবনেও এর অশুভ প্রভাব এসে ছায়াপাত করেছিল। তিনিও সাময়িকভাবে জাতীয় আন্দোলনের পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে মুসলমানদের মধ্যে ‘তাঞ্জিম ও তাবলীগ’-এর ধর্মীয় আন্দোলনে মগ্ন হয়ে রইলেন। প্রায় দুই বছরকাল এই ধর্মীয় আন্দোলনের রাহুগ্রাস তাঁকে জাতীয় আন্দোলনের ক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল।
সাময়িকভাবে বিচ্যুতি ঘটলেও ড. কিচলু শেষ পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কক্ষপথে ফিরে এসেছিলেন। যে সময় তিনি ‘তাঞ্জিম ও ‘তবলীগ’ এর ধর্মীয় আন্দোলনে মগ্ন হয়েছিলেন, তখনও তাঁর বিরুদ্ধে কেউ সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ আনতে পারেনি। হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রশ্নে কখনও তার বিচ্যুতি ঘটেনি। রাজনৈতিক মতামতের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন চরমপন্থী। তার প্রায় প্রতিটি বক্তৃতাতেই তিনি স্পষ্টভাবেই এই অভিমত প্রকাশ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments